শিবচরে খিদমাতুশ শাবাব সংস্থার ফ্রি ব্লাড ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

অন্যান্য ক্যাম্পাস ঢাকা ব্রেকিং নিউজ মাদারীপুর শিবচর সারাদেশ

মাদারীপুর শিবচর উপজেলায় জনসচেতনতা উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে খিদমাতুশ শাবাব সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের মাদবরেরচর আর.এম. উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী পেশা প্রায় চার শতাধিক মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন মাদবরেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক নুরুল ইসলাম মাদবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদবরেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষায়ক সস্পাদক এস.এম মসিউর রহমান। পাঁচ্চর ইসলামিয়া হসপিটালের ব্যবস্থপনা পরিচালক ডা: নুরুল ইসলাম, মাদবরেরচর আর এম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ মোতালেব মিয়া, সমাজ সেবক শহিদ মুন্সী, সামাজিক বাজারের পরিচালনার কমিটির প্রধান মোঃ শহিদ হোসেন, শিবচর সেচ্ছা রক্তদান ও রক্তযোদ্ধা গ্রুপের পরিচালক বি. এম হেমায়েত উদ্দিন, সুপারম্যান ব্লাড গ্রুপের পরিচালক সুমন কুন্ডু

‘‘খিদমাতুশ শাবাব’’ সংস্থাটি বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের তরুণ-তরুণী নিয়ে গড়ে উঠেছে। যাদের একমাত্র লক্ষ্য মানব সেবা। একঝাক তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীদের মানবসেবার এই কার্যক্রমে এলাকাবাসী খুবই আপ্লুত, শিক্ষাজীবনে এমন অসাধারণ চিন্তাভাবনা দেখে তারা গর্বিত। এমন ভালো কিছুর আয়োজন চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম হবে উন্নত দেশের গর্বিত মানুষ। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রায় দুইশতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে রক্ত দান ও ৩৮১ জনকে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং করেছেন। আর এই ক্যাম্পেইনের মেডিকেল সেবা দেন পাঁচ্চর ইসলামিয়া হসপিটাল।

অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আজ তারা এই এলাকার তরুণদের সামনে এক বড় উদাহরণ সৃষ্টি করে গেল। এমন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আরো সৃষ্টি হলে এলাকার মানুষ আরো বেশী উপকৃত হবে। তাদেরকে অনুসরণ করে ভবিষ্যতেও তরুণরা এমন মহৎ উদ্যোগ আরও বেশি বেশি গ্রহন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন- খিদমাতুশ শাবাব সংস্থার সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক এম এ শিকদার, অর্থসম্পাদক ব্যাংকার আবুল হাসান, আরিফ নুর, আবরার ফাহাদ, জিয়াদুল, হাসান আলভী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা, মৌসুমী, রাহাদ, জিহাদ, রাব্বি, মো: রাসেল তাহমিনা আক্তার, জাহিদুল, তুহিন, আবু সাঈদ, রফিকুল, হাসান মাদবর,শহিদুল, সিয়াম, খলিল, নিশাদ খান, তানজিল মাহমুদ, সবুজ মাদবর, আল আমিন সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ ।

রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খিদমাতুশ শাবাব’’ সংস্থাটি এটি খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে। যার ফলে আমরা অনেকে ব্লাড গ্রুপ জানতে পেরেছি। পাশাপাশি আমাদের পরিবার কিংবা আমাদের কোনো আত্মীয়-স্বজনের জন্য রক্ত লাগলে আমরা রক্ত দিতে পারবো।

উল্লেখ্য গতবছর ১লা আগস্টে অল্প বয়সী কজন ছাত্রের উদ্যগে এই সংগঠনের পথচলা শুরু। যার লক্ষ ও উদ্দেশ্য ছিল রক্তদান, মাদক নির্মুল, সামাজিক সচেতনতা, ইভটিজিং রোধ, অসহায় দুঃস্থদের সহয়তা, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ার সুবিধা ইত্যদি।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, রক্তদানের উপকারিতাঃ

১. রক্তদানের প্রথম এবং প্রধান কারণ,একজনের দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে।  

২. রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয় এবং রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকার জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য রক্তদান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

৩. নিয়মিত রক্তদান করলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।  

৪. আরেক গবেষণায় দেখা যায়, যারা বছরে দুই বার রক্ত দেয়, অন্যদের তুলনায় তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে অনেক কম পরিলক্ষিত হয়েছে। চার বছর ধরে ১২০০ লোকের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়েছিলো।  

৫. নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কিনা তা বিনা খরচে জানা যায়। যেমন : হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।  

৬. প্রতি পাইন্ট (এক গ্যালনের আট ভাগের এক ভাগ) রক্ত দিলে ৬৫০ ক্যালরি করে শক্তি খরচ হয়। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুণ্যের বা সওয়াবের কাজ। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.